Home > সাফল্যের গল্প > ক্যামেরা প্রেমিক জাকি বাংলার গল্প
সাফল্যের গল্প

ক্যামেরা প্রেমিক জাকি বাংলার গল্প

 

মাসিদ রণ

এ সময়ে দেশের সেলিব্রেটিভিত্তিক ফটোগ্রাফি করছেন যে ক’জন ফটোগ্রাফার তাদের মধ্যে অন্যতম জাকি বাংলা। তিনি কাজ করছেন জনপ্রিয় ইংরেজি জাতীয় দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এ। মূলত সেই সুবাদে সেলিব্রেটিদের ছবি তোলার শুরু। এখন শোবিজ অঙ্গনের অনেক তারকার প্রিয় ফটোগ্রাফার, কাছের মানুষ তিনি। কিন্তু জাকি বাংলা মূলত প্রকৃতির অপার সৌন্ধর্য্য তার ক্যামেরার লেন্সে তুলে আনতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন। আর মানুষের ছবি তুললে তার সাজ-পোশাকের চেয়ে গুরুত্ব দেন তার ভেতরকার সৌন্ধর্য্যের প্রতি। এজন্য সবার থেকে তার ছবি হয়ে ওঠে ব্যতিক্রম। runa laylaএই মেধাবী ফটোগ্রাফার তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কলকাতার একটি জনপ্রিয় অনলাইনের চোখে সেরা ফটোগ্রাফির পুরস্কার পেয়েছেন। যে ছবির জন্য এ পুরস্কার পান সেটি ছিল চীনের একটি নাচের ছবি। ঢাকার মঞ্চে সেই পরিবেশনার মনোমুগ্ধকর ছবি ধারন করে রেখেছেন জাকি বাংলা। chayna danceবাংলাদেশের এমন কোন বড় বড় তারকা নেই যার ছবি তিনি তোলেন নি। তবে নন্দিত সঙ্গীতশিল্পী আনুশেহ আনাদিলের ছবি তুলতে পেরে এই ক্যামেরাপ্রেমী অনেক বেশি আপ্লুত। তার গান নাকি জাকি বাংলাকে নিয়ে যায় ভিন্ন এক ভাবের জগতে। যেখানে তিনি খুজে পান আমার আমিকে। নিজের মতো করে কিছু সময় পার করার অন্যরকম এক অনুষঙ্গ আনুশেহের গান।pauli-anusheh-shilpa

শুধু দেশের তারকারাই নন, বলিউড ও হলিউডের বিখ্যাত সব তারকার ছবি তুলেছেন তিনি। এরমধ্যে রয়েছে শ্রেয়া ঘোশাল, সুনিধি চৌহান, রাহাত ফাতেহ আলী খান, বিশাল-শেখর, আতিফ আসলাম, অরিজিৎ সিং, মিকা সিং, কেকে, ফারহান আখতার, ফাওয়াদ খান, ঋতৃপর্ণ‍া সেনগুপ্ত, পাওলি দাম, পার্বতী বাউল, আবিদা পারভিন, সুষ্মিতা সেন, শিল্পা শেঠী, দিয়া মির্জা, মালাইকা আরোরা খান, পরিণীতি চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোন, জস স্টোন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, পণ্ডিত বিরজু মহারাজ, শাহরুখ খানের মতো তারকারা।shushmita senআজকের এই সফল ফটোগ্রাফারের জীবনে দুটি ঘটনা না ঘটলে হয়ত তার এই পথে আসাই হত না। সিলেটের সন্তান জাকি বাংলার বাবা লন্ডন থেকে তার জন্য কৌশর বয়সেই একটি ক্যামেরা কিনে আনেন। নিজে নিজে যে ছবি তুলতেন তা পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের কাছে বেশ প্রশংসা পেত। তাইতো এলাকার এক ফটোগ্রাফারের কাছে গিয়েছিলেন একটু ভালো করে শেখার জন্য। কিন্তু সেই লোক জাকি বাংলাকে নাকি বলেছিলেন, ‘তুমি কোনদিন ফটোগ্রাফারই হতে পারবা না!’

diya-mirja-jaki

জিদ চাপে জাকির মনে। তিনি আরো পরিশ্রমী হয়ে ওঠেন ক্যামেরার পেছনে। সিলেট শাহজালাল ইউনিভার্সিটির সুপা থেকে ফটোগ্রাফির ওপর কোর্স করে ফেলেন। নিজ এলাকা সিলেটের হরিপুর, জাফলং, হাওড়, গ্রাম্যজমি, কৃষক, জেলের মাছ ধরা, প্রাকৃতিক দৃশ্য ইত্যাদির ছবি তুলে পাঠাতেন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। তখনই একবার লালন সাধুসঙ্গের কিছু ছবিও তোলা হয় তার। সেই ছবি নজরে আসে ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার এক সিনিয়র সাংবাদিকের। জাকির ছবি দিয়ে ‘ফ্রেইম ওয়ার্ক’ নামে পুরো এক পৃষ্ঠা সাজানো হয় পত্রিকাটিতে। তারপর সেই সাংবাদকিই জাকিকে নিজের পত্রিকায় ফটো সাংবাদিক হিসাবে কাজ করার সুযোগ দেন। এরপর জাকি বাংলা শুধূই এগিয়ে চলেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন ছবি তোলা বা ক্যামেরা ছাড়া একটি দিনও ভাবতে পারিনা। ক্যামেরাই আমার নিত্যসঙ্গি। যতোদিন বাঁচি ক্যামেরা ছাড়ব না।’