Home > খেলাধুলা > ক্রিকেট উন্নয়নের কাণ্ডারী মাহামুদূল রনি
খেলাধুলা

ক্রিকেট উন্নয়নের কাণ্ডারী মাহামুদূল রনি

 

শুভসকাল ডেস্ক: মোঃ মাহামুদূল হক রনি। শৈশব থেকেই আট-দশ জনের মত তারও ভালবাসার কেন্দ্রে ছিল ক্রিকেট। সেই ভালোবাসাই ক্রিকেট আজ পরিণত হয়েছে পেশায়। যুব ক্রিকেটের উন্নয়নই এখন তার মূল কাজ। বর্তমানে তিনি আয়ারল্যান্ডের লেইনস্টারবিভাগের স্কুল কমিউনিটিডেভেলপমেন্ট এর প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। স্কুলটির সাথে তার পথ চলা শুরু ২০১৫ সাল থেকে।
২০০৯ সালে সেন্ডিফোরড ক্রিকেট ক্লাব দিয়ে আয়ারল্যান্ডে ক্রিকেটের সাথে যাত্রা শুরু করেন রনি। তিনি তার নৈপূন্যতার উৎকর্ষতা, দক্ষতা আর অভিজ্ঞতার উন্নতির জন্য অভিজ্ঞ আর পেশাদারী খেলোয়াড়দের ক্লাব ফিনিক্স ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন। এছাড়াও তার সুযোগ হয়েছে ক্লোনটার্ফএবং সিভিল সার্ভিস ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলার। দীর্ঘসময় তাদের সাথে খেলার পর তিনি অর্জন করেছেন খেলোয়াড় তৈরির নানা কৌশল, বিভিন্ন ক্লাবের অনুশীলন প্রক্রিয়া, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং কিভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে তার বিভিন্ন ধাপ। কঠোর পরিশ্রম,শৃঙ্খলা, সততার বাহিরে আরও অনেক কিছু আছে যা একজন পরিপূর্ণ ক্রীড়াবিদের প্রয়োজন বলে মনে করেন রনি।
আয়ারল্যান্ড মহিলা ক্রিকেট দলের সাবেক প্রশিক্ষক ও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের সাথে বিভিন্ন ক্রিকেটীয় কর্মকান্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছে রনির। সেই সুবাদে তিনি জানতে পেরেছেন ওখানকার ক্রিকেটাররা ভাগ্য নয়, সাফল্যের জন্য অনুশীলনে বেশি সময় দেন। তাদের চিন্তায় সব সময় থাকে কিভাবে তাঁর দুর্বলতাকে শক্তিতে রুপ দেবেন। যা সত্যিকারের একজন পেশাদারী ক্রিকেটারের প্রয়োজন।
পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা একটি দলের জন্য যেমন খুবই দরকার তেমনি একজন ভালো খেলোয়াড়ের জন্য দরকার অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক। একজন ভালো প্রশিক্ষকের সবচেয়ে বড় গুন পর্যবেক্ষণ এবং খেলোয়াড়ের মানসিক শক্তিকে তাঁর মধ্যে জাগিয়ে তাঁর ক্ষমতার সুউচ্চে নিয়ে যাওয়া এবং কিভাবে সে তাঁর সে স্থান ধরেরাখতে পারে তা নিশ্চিত করা। এই দুটো বিষয়ই প্রাকৃতিকভাবে রনির মধ্যে রয়েছে। অনুশীলনের সময় প্রায়ই প্রশিক্ষক তাকে অনুরোধ করতেন কম বয়সীদের ব্যাটিং কিংবা বোলিং এর বিভিন্ন নিয়ম বুঝিয়ে দিতে। তিনি তাদের দুর্বল যায়গাগুলো নিয়ে তাদের শাথে কথা বলতেন এবং প্রধানকে জানাতেন। আজ সেই খেলোয়াড়দের মধ্য থেকেই কয়েকজন জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন।
রনি সফলভাবে শেষ করেছেন পেশাদারী প্রশিক্ষণের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং ই বি সি লেভেল-২। তারপরই সিভিল সার্ভিস ক্রিকেট ক্লাবের প্রধান প্রশিক্ষক হওয়ার প্রস্তাব পান তিনি। কাজ শুরু করেনে সেখানে। ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে তার ক্লাব টপ ডিভিশন উন্নীত হয়। যা ছিল রনির জন্য সম্মন আর গৌরবের। রনি মনে করেন, ওই সাফল্যর পুরস্কার হিসেবেই সে বর্তমান কাজটি পেয়েছেন।
মানুষের একসময় আসে সে তার সকল অভিজ্ঞতা, প্রাপ্তি এবং প্রত্যাশা তার পরবর্তী প্রজন্মকে দুহাত ভরে দিয়ে জেতে চায়। প্রশিক্ষক রনিও তার ব্যাতিক্রম নন। যোগ্যতা মান দণ্ডের অনেক হাতিয়ার আছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এ বিষয়ে রনি বলেন, আমি জানিনা আমার প্রত্যাশা পুরন হবে কিনা, আমার এই ছোট ছোট পাওয়া গুলো আমরা দেশের সেই ক্ষুধে ক্রিকেটারদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে চাই যারা আমারই মত স্বপ্ন দেখে লাল সবুজের পতাকাকে সম্মানের সাথে বহন করবে এবং দেশ ও তাদের পরিবার কে এনে দেবে এক বিরল সম্মান। আমি বিশ্বাস করি প্রত্যয় দৃঢ় হলে প্রত্যাশা পূরণ হবেই।
তাই রনি এখন খুঁজে যাচ্ছেন সেই সব প্রতিভাবানদের যারা স্বপ্ন কে বাস্তবে রুপ দিতে প্রস্তুত। তাদের খুঁজে ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজে লাগাতেই পারলে সার্থক হবে মাহামুদূল হক রনির স্বপ্ন।