Home > লাইফ স্টাইল > তাতীদের উন্নয়নে কাজ করতে চান ফ্যাশন ডিজাইনার সেতু
লাইফ স্টাইল

তাতীদের উন্নয়নে কাজ করতে চান ফ্যাশন ডিজাইনার সেতু

 

শুভসকাল ডেস্ক : বিগত এক দশক ধরে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের সঙ্গে যুক্ত আছেন সেতু। কাজ করে যাচ্ছেন নিজস্ব গতীতে। তার ডিজাইনে রয়েছে স্বকীয়তা। তাইতো খুব দ্রুত ফ্যাশন জগতে নিজের আলাদা অবস্থান করে নিয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজস্ব ফ্যাশন হাউজ। ‘ওশান অব আর্ট’ (বাড়ি ১৩, রোড ১৯, সেক্টর ১৩, উত্তরা) নামের ফ্যাশন হাউজটি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ২০০৮ সালে। এছাড়া নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘সেতু’স কালেকশন’-এ ভিজিট করলেও তার ডিজাইন করা পোশাক দেখতে পাওয়া যাবে। সেতু কলকাতার এনআইএফডি থেকে দুই বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করেন ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ওপর। এরপর বাংলাদেশের এনআইএফডি থেকেও আর্টের ওপর শর্ট কোর্স করেন।

একটি ফ্যাশন শোতে জনপ্রিয় র‌্যাম্প মডেল বুলবুল টুম্পা সেতুর ডিজাইন করা লাল-সাদা শাড়ি পরে ক্যাটওয়াক করেন। সঙ্গে ডিজাইনার আয়শা খালেক সেতু

ক্যারিয়ারের ১০ বছরে ২৬ টি ফ্যাশন শো করেছেন ডিজাইনার সেতু। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- পিংক সিটিতে ব্লকের ওপর শো, উত্তরাতে অ্যাম্ব্রয়ডারির ওপর শো, হবিগঞ্জে জামদানি নিয়ে শো ও টাঙ্গাইলে তাত নিয়ে শো। এছাড়া জামদানি দিয়ে একটি জমকালো গাউন তৈরি করে সাড়া ফেলে দেন দেশীয় ফ্যাশন অঙ্গনে। বর্তমানে তিনি ১৫ জন মহিলার কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন।
আজকের সফল ফ্যাশন ডিজাইনরা সেতুকে আজকের অবস্থানে আসতে অনেক বাঁধা বিপত্তি পার করতে হয়েছে। প্রথমেই বাঁধা পেয়েছেন পরিবার থেকে। তার অন্য ভাই-বোন কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা আইনজীবী। তাই তিনি যখন ক্রিয়েটিভ লাইনে লেখাপড়া করতে চাইলেন তখন সবাই নিষেধ করেন। এরপর যখন একটি বুটিক হাউজ করতে পরিবারের সহায়তা চাইলেন তখনও তিনি পরিবারের সহযোগীতা পাননি প্রথমে। আর বিয়ের পর স্বামীও তাকে কাজটি করতে কোনো সহায়তা করেননি। সেতু নিজের চেষ্টায় এতোদূর এসেছেন। এ প্রসঙ্গে সেতু বলেন, ‘আমরা শুধু মুখেই বলি নারীরা অনেক স্বাধীন হয়েছে, নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে ইত্যাদি। কিন্তু এখনো একটি মেয়েকে সব ধরনের ভালো কাজে সহযোগীতা করেন না তার পরিবার। আর সামাজিকভাবে তো নারীরা আরও নিগৃহিত। তাদের কাজ করতে অনেক বেশি সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। তবে যে সব নারীরা নিজের মেধা ও মানসিক শক্তি দিয়ে সেসব সমস্যাকে জয় করতে পারেন তারাই সফল হতে পারেন।’
নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে এই মেধাবী ফ্যাশন ডিজাইনার বলেন, ‘কাজ করতে গিয়ে দেখেছি তাতীরা তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক পায় না। আমি তাতীদের উন্নয়নে দেশি ফেব্রিক নিয়ে কাজ করতে চাই। বিশ্বের দরবারে দেশীয় পোশাক তুলে ধরতে চাই। এরই ধারাবাহিকতায় আসছে নতুন বছরের মার্চে কলকাতায় একটি ফ্যাশন শোতে অংশ নেব।’