Home > Editor’s Choice > নিজেকে প্রমানের অপেক্ষায় মিরাজ
Editor’s Choiceখেলাধুলা

নিজেকে প্রমানের অপেক্ষায় মিরাজ

 

ইফতেখার শুভ: ছিপছিপে গড়ন। বয়স মাত্র আঠেরো। অথচ এরই মধ্যে মাতিয়েছেন পুরো দেশ। চলতি বছর নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে। দলকে প্রথম বারের মতো নিয়েছিলেন সেমিফাইনালে। যা এর আগে কোন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে করতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠ মাতাতে চান এই তরুণ।
মেহেদী হাসান মিরাজ। বরিশালের বাকেরগঞ্জে জন্ম হলেও বেড়ে ওঠেন খুলনায়। তার শৈশব কেটেছে তিন চাচার সঙ্গে ক্রিকেট খেলে। ক্রিকেট না বুঝলেও আনন্দের জন্যই খেলা হতো তার। মিরাজ তখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। বাবা-মায়ের সঙ্গে তাকে পাড়ি জমাতে হয় খুলনায়। শুরু হয় এলাকার ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা। কিন্তু বাধ সাধলেন তার বাবা। ক্রিকেট বাবার মোটেও পছন্দ না। তাই তার হাতে অনেক মার খেয়েছেন অনেক। কিন্তু দমে যাওয়ার মতো ছেলে ছিলেন না মিরাজ। পালিয়ে চলে যেতে মাঠে। মায়ের আদর আর সাপোর্ট পেয়েছেন সবসময়।
২০০৬ মিরাজ পরিচিত হন খুলনার কোচ আল মাহমুদের সঙ্গে। তার অধীনে কাশীপুর ক্রিকেট একাডেমিতেই ক্রিকেট বলে হাতেখড়ি হয়। কোচের কাছ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা পান তিনি। তবে পারিবারিক বাধার কারনে নিয়মিত অনুশীলন করতে পারতেন না। ২০০৭ সালে খুলনা অনূর্ধ্ব ১৪ দলের জন্য বাছাইতে অংশ নেন। টিকে যান মিরাজ। সেই সাথে আসতে থাকলো পরিবারের সাপোর্ট। ক্রিকেট বলে বাগেরহাট জেলার বিপক্ষে নিজের অভিষেক ম্যাচেই খেলেন ৫৩ রানের ইনিংস। এরই ধারাবাহিকতায় ডাক পান বিভাগীয় দলে।
এরপর ২০০৯ সালে ডাক আসে জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৫ দলে। বাবা-মায়ের মায়া ছেড়ে খুলনা ছেড়েন পাড়ি জমান ঢাকায়। নিবাস গড়েন সাভারের বিকেএসপিতে। তবে প্রথমবার খেলা হয়নি জাতীয় দলে। ভেঙ্গে পড়েন তিনি। তবে কোচ দিপু রায় চৌধুরীর সান্তনায় আবারো প্রত্যয়ী হন ঘুরে দাড়ানোর জন্য। পরের বছর ঠিকই সুযোগ হয় মূল দলে খেলার। ২০১১ সালের জানুয়ারীতে জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৫ দলের অধিনায়ক হিসেবে ভারত সফরে গিয়েই বাজিমাত করেন। এরপরই অধিনায়ক হন অনূর্ধ্ব ১৭ দলের।
২০১৩ সাল। ঘরোয়া ক্রিকেট দারুন পারফর্ম করায় ডাক পান অনূর্ধ্ব ১৯ দলে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেকেই শতকের দেখা পান মিরাজ। সঙ্গে দুটি উইকেট। এরপরই পেয়ে যান অধিনায়কত্ব। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। চূড়ান্ত সাফল্য পান ২০১৫ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট বিশ্বকাপে। দারুন নেতৃত্ব দিয়ে দলকে নিয়ে যান সেমিফাইনালে। প্রশংসা আর অভিনন্দনে ভাসেন তিনি। তবে কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ। চাপ ছিল প্রবল। কিন্তু তাতে কি! চাপ জয় করতেই যে দারুন পছন্দ মিরাজের।
তবে সব কিছু ছাড়িয়ে এবার জাতীয় দলের হয়ে নিজেকে প্রমান করতে চান। দেশকে দিতে চান আরো অনেক কিছু। নিজেকে উজাড় করে আরো বাড়াতে চান লাল সবুজের পতাকার সম্মান। ইতোমধ্যে ডাক পেয়েছেন আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য ঘোষিত দলে। তবে কি অতীতের মতো এবার জাতীয় দলের হয়ে দূত্যি ছড়াবেন এ ডানহাতি স্পিন অলরাউন্ডার? এবার সেটাই দেখার পালা।