Home > সাহিত্য > কবিতা > পাঁচটি রোমান্টিক কবিতা

পাঁচটি রোমান্টিক কবিতা

 

মেয়েটিকে

যে মেয়েটিকে আমি রোজ দেখিRomantic-love-painting
সে দেবতার ছলে গড়া
যে মেয়েটিকে আমি রোজ দেখিনা
সে মার্ক্সের দ্য ক্যাপিটল দিয়ে গড়া
দু’জনের মধ্যে মিল এসে গেলে
চাঁদ-সুরুজ, যুক্তি-বুদ্ধি-মেধা
চমক দিয়ে উঠে, গমক দেয়
যে মেয়েটিকে আমি দেখতে পাই
সে পার্ল এস বাকেরও মা হয়
যে মেয়েটিকে আমি না দেখি
সে মাক্সিম গোর্কিরও মা হয়

সেই মেয়েটিকে আমি নারী সাহসিকা বলি
সেই মেয়েটিকে আমি হৃদয়ে কোলাহল বলি
এই মেয়েটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় সময় সময়
পুঁজিবাদ দীর্ঘজীবী হবার কৌশল নিয়ে নিেেল
এই মেয়েটিরই আবার মুখ রক্তাভ হয়ে উঠে
যখন সমাজ থেকে দূষিত রক্তরা ঝরে যায়

যে মেয়েটি আমার পুনর্বিন্যাস ঘটালো পরতে পরতে
তার দুই রকম রূপ এসে মিলে আমার এক সাঁকোতে

যে মেয়েটিকে আমি রোজ দেখি
কথা বলতে গিয়ে হঠাৎই তার লাইন কেটে যায়
ইথারের আজন্ম ঈর্ষায়, ঠিক তখুনি আমার বুক
ফেটে ¯্রােতের নদী বেরিয়ে যায়, এই মেয়েটি বরাবর
কোনো সরোবরে দাঁড়ায় না, যেখানে দাঁড়ায় তার দু’পাশে
আমার মত আর কোনো মাল্যবান বসত গড়েনি কখনো
এই মেয়েটি হাইপেশিয়ার মত একলা জীবন কাটাতে গিয়েও
আমার জীবনে পরম বক্তা হয়ে উঠে ভালোবাসা ও চেতনার
যে মেয়েটিকে আমি দেখিনা রোজ
সেই মেয়েটি আমার স্বপ্নভোজের পাল নাড়ানো এক শাখাচিল
এই দুয়ের আঁচিলে বেড়ে উঠা আমার প্রণয়বলয় রোজ মেহফিলে
ঠুমরির সুরে বেদরদি আলাপ ভুলে এক রহম দিলের খোঁজ দেয়

যে মেয়েটিকে আমি রোজ দেখি এবং দেখছিromantic-rain
ঘরেতে না এসেও সে মনে আসে যায়
যে মেয়েটিকে আমি রোজ দেখিনা ও দেখছিনা
সে আমার শরীরের অর্ধযামিনী কেড়ে নেয়, অর্ধদিনটুকুও
অন্ধকারে আমার চৈতন্যে একই সত্তার এই দুই শাখার লড়াই
পিছনে পায়ে পায়ে হাঁটা সবুজ সারসের নিস্তব্ধতা নিয়ে আসে

একদিন জানা গেল এই দুই মেয়ের
জন্ম হয়েছিল একই দিন এক শরীরে
অথচ কি অবলীলায় বিভক্ত ও এক করেছিলো
আমার জীবনের পহেলা বাতাস ও পয়লা প্রণয় !!

এক যে ছিলো কন্যা

এক যে ছিলো কন্যা
এক যে ছিলো তুলারু
এক যে ছিলো কন্যা
এক যে ছিলো দাবাড়ু

কন্যা এখন মেয়ে, মা, নারী ও লাল শাড়ি
ঠিক তার পাশেই দাঁড় করিয়ে রেখেছি দাঁড়ি,
বৈঠা হাতে আর দাঁড়ি সাথে ঝিকোনো মেঘে
কন্যার কোনো ভিটে নেই, আছে তীরের বালি..!!

এক যে ছিলো কন্যাromantic
এক যে ছিলো তুলারু
এক যে ছিলো কন্যা
এক যে ছিলো দাবাড়ু

কন্যার এখন আঠারো মনে পড়ছে
ছেলেটির মাথায় ঘুরছে সেই একুশ
আকাশের ঠিকানায় কন্যারই চিঠি
তার জেরক্স কপি ছেলের মাটির ঘরে
হ্যারিকেনের আলোয়, চারপায়া টেবিল
হয়ে ছেলেটির কাছে যখন ফিরে এলো
কন্যার মানচিত্রে তখন চুয়ান্ন বর্ষসময়
আর ছেলেটির কপালে তেষট্টির মহারণ…
সময়ের মধ্যাকর্ষে জ্বলছে তখন চিতা পোড়ানো জখম..!!

তোমার খালিবাড়ি

তোমার খালিবাড়িতে মূকাভিনয় করতে চাই না।
লঘুচাপের শিকার হওয়া ও বাড়িতে আমার পাতা, পুষ্প, বিন্যাস
ঠিক যাচ্ছে না; তিরিশবার কান পেতেও তোমার কড়ানাড়ার শব্দ
পাইনা সেখানে। তোমার উইন্সলেট চুম্বনও নেই, উরুভুরুর অন্তরাল
ভাঙার আস্পর্ধা নেই যেখানে, সেখানে আমার যতিচিহ্ন জমে যায়।
আবার কমে যায় হিমোগ্লোবিনের আপ্লুত মেধা ও বারোমাসি আর্দ্ররস।

ইচ্ছামতির তীর ভাঙা তোমার বিক্ষত ট্রিগার এখন আমার হাতে।
তাই মূকাভিনয় দিয়ে তোমাকে উষ্ণ গ্রেনেড, ঝুমুর সন্ধ্যা মনে হয় না
এসো, সম্মোহনের তুরুপ দিয়ে আমরা চাষবাস করি, প্রাণী ও বৃক্ষের সাথে
ঘর করি, এসো, এমন কোনো যৌথজীবন বানাই, মতবাদ প্রবণতা সেখানে অর্থহীন।

তোমার খালিবাড়িতে সবচেয়ে সহজ হলো পৃথিবী-পাল্লায় রক্ত ও কান্না মাপা।
নতুন আনন্দে যার কোনো অভিবাসন নেই, প্রণোদনার উপনিবেশ নেই, নেই।
তোমার ভরাবাড়ি যেদিন খালি হলো, তখন থেকেই আমার ক্ষিপ্র অশ্বের প্রবাহ নেই।
ক্ষুধাতাড়িত তোমার জটিল খালিবাড়ি, আমার বউপ্রাশনের বিপরীত চরাচর।
এসো খালিবাড়িটা প্রপাতের জলকেলিতে ভরিয়ে তুলি, এসো। মূকাভিনয়টা থাক।

বউভাষাromantic2

অন্তনীল আকাশে হাঁটছে বউ। মন্ত্রহীন একটা মন্ত্রপুতের বউ।
হাত নাড়িয়ে হাঁটছে, আগ বাড়িয়ে হাঁটছে বিমানসেনানী বউ।
বউ মানে আকাশ, বউ মানে দগ্ধ না হওয়া, বিষাদ না মাখা
তারাপুত মুখ, চাঁদের হিংসা ধরানো অসুখেই তার বিস্তারণা।
গ্রহ থেকে গ্রহদরোজা, তারা থেকে তারাদেরও সিম্ফনিপথেই,

এই একজন একক বউ, নারী স্বাধীনতা পাওয়া বউটা আসে।
জলে ভাসে, স্থলে ভাসায়, মলে হাসায়, শপিংয়ে কেনাকাটায়
বউয়ের আদ্যাক্ষর থেকে বুনো, শেষ অক্ষরে তার উন্মোচন।
বউ নামক শব্দটির প্রতি আদি-অকৃত্রিম-অনাদি-কমললোচন।

বউটার খাস ভাষা হলো বউভাষা, যে বাংলায় নারীরা সব
হয়ে উঠতে পারে, মা থেকে বন্ধু, প্রেমিকা, জায়া মায় বউই
এমন একটা বউয়ের জন্য অপেক্ষা করে আছি। জীবনপথে।
সামনের শরতে একটা বউরচনা লিখবো। তারপর বউবরণ।

অন্তনীল আকাশ থেকে বউটা নামলো। তারপর থেকেই আমি
অপহৃত হয়ে আছি বউদর্শনে, জীবনের ঘূর্ণিপাতে, মন-মননে।

স্বপ্ন প্যালেস

স্বপ্নে গিটার, দোতারা, কি-বোর্ড সব বেজে উঠছে।
গিটার মানেই অসংখ্য ভালোবাসা জমিয়ে রেখেছো
তার স্কেলে, কর্ডে কর্ডে, একদিকে ফ্ল্যাট তো আছো
ওই্দেিক শার্প হয়ে, তুমি টিউন করলেই মন ফুটছে।

স্বপ্নে নছিমন-করিমনের আওয়াজ পাই, ওরা সারগাম
চালাচ্ছে ঘুমে, তার ফাঁকে যন্ত্রসঙ্গীতে তুমি আমি এলাম।
দেখি জীবনের মেয়াদ মাইলের পর মাইল লম্বাটে হচ্ছে
বোম্বেটে হচ্ছে, চওড়া এই আয়ুর সাঁকোতে জলও ঝরছে

গিটারটা কাত করলেই তুমি বব ডিলন, সোজা করলেই
জর্জ হ্যারিসন, আর এলিয়ে দিলে মেরিলিন উরুর সঙ্গীত
চলে, বলে রানার কোথায়? আজ ডিজিটাল না এনালগেই
চলবে দ্বৈত ফিউশন, তোমাতে বাধা আমার এ রম্যগীত!!

আমাদের মিক্সিং, ডাব, অর্কেস্ট্রেশন, অপেরার প্যালেস
সব ঠিকঠাকমতো হচ্ছে, হচ্ছেনা শুধু গলার আনন্দমেস
থেকে পুঞ্জ বিনোদন, স্বপ্ন সরঞ্জামে যোগ হয়নি এ সঙ্গত
স্বপ্নে পানশালা থেকে বেরোলাম, দেখলাম তুমি দিনগত

রাত হয়ে আমার ওষ্ঠেই রেখে দিলে সিম্ফনির হারমোনি
স্বপ্নে মানবাধিকার এলো, তাকে খুশি করে তোমাকে শুনি

স্বপ্নের কি-বোর্ডে পার্ল ড্রপ আর স্ট্রিংস। বাজছে, যাচ্ছিই
মেলোডি থেকে মরুর সঙ্গীতে, থাকছেনা শুধু মনে লাচ্ছিই..!!

Dipak-BHowmickদীপক ভৌমিক। জন্ম ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬১ (১ ফাল্গুন ১৩৬৮) সালে।  দেশের অন্যতম কবি ও সব্যসাচী এই লেখক সাহিত্যের বিভিন্ন মাধ্যমে সমান পারদর্শী। সত্তরের মধ্যভাগে লেখালেখি শুরু করা এই লেখক-কবি আশির দশকে স্বীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। তার প্রকাশিত দুটি কবিতার বই, অবেলায় অবগাহন (২০০১) ও রাত্রির মদ্যগান (২০১১)। বহু অনুবাদ কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ রয়েছে তার। এছাড়া ‘জাগছে বাংলাদেশ’ ও ‘যে ত্বকী ছড়িয়ে গেল সবখানে’ শিরোনামে তার দুটি আবৃত্তির সিডি এ্যালবাম বেরিয়েছে ২০১৩ সালে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.