Home > বিনোদন > ভিডিও > জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন > বৃষ্টির বিজ্ঞাপন সমাচার
জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনবিনোদন

বৃষ্টির বিজ্ঞাপন সমাচার

 

masid rono1প্রায় ২০টি টিভিসির মডেল হয়েছেন বৃষ্টি ইসলাম। তাঁর শুরুর গল্প দিয়েই হতে পারে একটা নাটক কিংবা সিনেমা। বৃষ্টি অকপটে বলে গেলেন সেই গল্প, “আমার বয়ফ্রেন্ড নাহিদ অনেক আগে থেকেই মিডিয়ায় কাজ করে। র‌্যাম্প মডেলিংয়ে তার ভালো অবস্থান রয়েছে। মাসুদুল হাসানের ‘সাফিয়া’ নামের একটি চলচ্চিত্রে সে সুযোগ পায় নায়ক হিসেবে। কিন্তু পরিচালক চান এক বাস্তবের প্রেমিক-প্রেমিকা জুটি। যাতে ছবিতে তাঁদের আবেগ কৃত্রিম মনে না হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কাউকে পরিচালকের মনে ধরেনি। অবশেষে কিভাবে যেন আমার ছবি দেখেন তিনি। দেখেই পছন্দ করে ফেলেন। কথা বলেন নাহিদের সঙ্গে। নাহিদও আমাকে উৎসাহ দেয়। ভেবে দেখলাম, আপন লোকের সঙ্গেই তো অভিনয় করব। তাই হালকা লাজ থাকলেও রাজি হয়ে যাই। যদিও কোনো এক ঝামেলার কারণে পরে আর ছবিটি শেষ হয়নি।”

পরের গল্প অনেকেরই জানা। হাফ স্টপ ডাউনের আশফাক-উজ-জামান বিপুল ফেসবুকে ছবি দেখে স্যামসাং মোবাইলের একটি টিভিসির জন্য তাঁকে নির্বাচন করেন। ২০১৩ সালের শেষের দিকে শুটিং হয়েছিল এই IMG_7405টিভিসির। এর পরই তিনি চোখে পড়েন রবি কর্তৃপক্ষের। তাঁর সঙ্গে ২০১৪ সালের প্রথম দিকে এক বছরের চুক্তি করে রবি। এ সময়ের মধ্যে রবির সাতটি টিভিসিতে মডেল হয়েছেন বৃষ্টি। মূলত এ বিজ্ঞাপনগুলোই তাঁকে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়। আর বৃষ্টিও বড় বড় নির্মাতার সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়ে যান। ফলে মিডিয়ায় জায়গা করে নিতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি তাঁকে।

বৃষ্টি বলেন, ‘আমি খুবই ভাগ্যবান। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভালো বলে সব সময় ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইতাম। কখনো মিডিয়ায় কাজ করব, আমার নাম হবে, পত্রিকার পাতায় ছবি ছাপা হবে- এসব স্বপ্নেও ভাবিনি। ভাগ্যই আমাকে এ জগতে টেনে এনেছে। আমিও আমার এই সৌভাগ্যকে বরণ করতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

বাবা-মায়েরও ইচ্ছা ছিল না মেয়ে এ জগতে জড়াক। বৃষ্টি বলেন, ‘ইচ্ছা না থাকলেও কাজে কখনো বাধা দেননি। তবে অতিরিক্ত কোনো ব্যাপার তাঁরা বরদাশত করবেন না- এটাই স্বাভাবিক। যেমন ঢাকার বাইরে গিয়ে টানা দু-তিন দিন বিজ্ঞাপনের শুটিং হলে নিষেধ আছে। এ জন্য বেশ কিছু ভালো কাজও আমাকে ছেড়ে দিতে হয়েছে। তবে আমি আশাবাদী, বাবা-মা একদিন এই জগৎ সম্পর্কে পুরোপুরি জানবেন। আরো ভালো কাজ করে তাঁদের মন জয় করতে চাই। তখন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারব।’

পারিবারিকভাবে এমন বিধিনিষেধ থাকলেও ভরসা ভক্তদের ভালোবাসা। বৃষ্টি জানান, ফেসবুকে বা সরাসরি অসংখ্য অপরিচিত মানুষ তাঁকে তাঁদের ভালো লাগার কথা জানান। তাঁরা তাঁকে অন্তর থেকে দোয়া করেন। এ ব্যাপারগুলো নতুন করে পথ চলতে তাঁকে সাহায্য করে।

এই ভালোবাসার শুরু ২০১৪ সালের মাঝের দিকে। বৃষ্টি তাঁর ক্যারিয়ারে তৃতীয় বিজ্ঞাপন আর রবির দ্বিতীয় টিভিসিটি করেন। এটি পরিচালনা করেছিলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। রবির একটি স্পেশাল প্যাকেজের টিভি বিজ্ঞাপন। গল্পে দেখানো হয়, প্রেমিক জুটি শপিংয়ে। প্যান্ট মাপমতো আছে কি না দেখার জন্য প্রেমিক গেছে ট্রায়াল রুমে। আর তখনই রবি থেকে ওই অফারটা পায় সে। এতে এতটাই খুশি হয় যে প্যান্ট না পরেই প্রেমিকাকে রেখে দৌড় লাগায় ছেলেটি। সেই মেয়েই বৃষ্টি।

এই কাজের মতো নাফিজের পরিচালনায় প্রাণ রকার ওয়েফারের টিভিসিটি করতে ঘটেছিল আরেক মজার ঘটনা। এখানে তাঁর কো-আর্টিস্ট ছিলেন জনপ্রিয় মডেল অর্ণব অন্তু। এই টিভিসিতে একটা দৃশ্য ছিল- অন্তুর লম্বা চুলের পনিটেল দৌড়ে এসে খুলতে হবে বৃষ্টিকে। সামান্য এই দৃশ্য করতে প্রায় ১০ বার শট দিতে হয়েছিল। আর তার জন্য দূর থেকে ১০ বার দৌড়ে এসে হয়রান হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁকে সাহায্য করার জন্য অন্তু নিজের চুলের পনিটেল প্রায় খুলেই রেখেছিলেন, যাতে বৃষ্টি সামান্য একটু টান দিলেই খুলে যায়। কিন্তু কাজটি ঠিকমতো হচ্ছিল না। তখন বৃষ্টি নিজের ওপর খুব বিরক্ত। পরে তিনি আবিষ্কার করলেন, এতে তাঁর কোনো দোষ ছিল না। সব দোষ অন্তুর। কারণ বৃষ্টি সাধারণ উচ্চতার হলেও অন্তু স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি লম্বা। তাই তিনি নাগালই পাচ্ছিলেন না চুলের। তাহলে শট ওকে করবেন কিভাবে! অবশেষে অন্তু বেচারাকে কুঁজো হয়ে দাঁড়াতে হয়েছিল বৃষ্টির জন্য।

এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এই তো, বৃষ্টির সর্বশেষ করা মোটরবাইকের টিভিসির শুটিংয়েও বৃষ্টি খুব দ্বিধায় পড়েছিলেন। এখানে তাঁর সহশিল্পী জনপ্রিয় দুই তারকা সাফা কবির আর তৌসিফ মাহবুব। গল্প এমন- দুই সুন্দরী বান্ধবী সাফা আর বৃষ্টি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। রাস্তার পাশে বসে থাকা তৌসিফ তাঁদের দিকে যেন ধেয়ে আসছেন। এতে দুই সুন্দরী মনে মনে খুব খুশি হলেও তৌসিফ সেই খুশিতে জল ঢেলে দেন। দেখা যায়, মেয়েদের দিকে নয়, তিনি পাশে থাকা বাইকের দিকে ধেয়ে আসছেন। এ ঘটনায় দুই তরুণী বিরক্ত হয়ে তৌসিফকে দুটি চড় দেবেন। সাফা অনায়াসে চড়টা দিতে পারলেও বৃষ্টি কিছুতেই তৌসিফকে চড় দিতে পারছিলেন না। কারণ তৌসিফ যে তাঁর থেকে অনেক সিনিয়র। পরে তৌসিফ স্বয়ং তাঁকে বোঝানোর পর বৃষ্টি সে যাত্রায় চড় মেরে উদ্ধার পান। নতুন এই টিভিসি এখনো প্রচার হয়নি।

বৃষ্টির আরো বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে অমিতাভ রেজা, মেজবাউর রহমান সুমনের পরিচালনায় রবির আলাদা আলাদা টিভিসি, টিটো রহমানের এসিআই সল্ট, আশফাক বিপুলের স্যামসাং ও এসএমসির ওরস্যালাইন, অম্লান বিশ্বাসের মোট্রেক বাইক, নাফিজের প্রাণ রকার ওয়েফার ইত্যাদি।

ছবি তুলেছেন শামছুল হক রিপন