Home > খেলাধুলা > যেভাবে অাজকের মুশফিকুর রহিম
খেলাধুলা

যেভাবে অাজকের মুশফিকুর রহিম

 

পুরো নাম: মোহাম্মদ মুশফিকুর রহিম

জন্মস্থান : বগুড়া

জন্ম তারিখ : ৯ মে, ১৯৮৭

ব্যাটিংস্টাইল: ডানহাতি

টেস্ট অভিষেক: প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ২০০৫

ওয়ানডে অভিষেক: প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, ২০০৬

নিজের যোগ্যতা ও প্রতিভার প্রমাণস্বরূপ খ্যাতি যেমন পেয়েছেন ঠিক তেমনি একজন নির্ভরযোগ্য মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবেও দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত দল থেকে ইনজুরি ছাড়া বাদ পড়েননি কখনও। লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সর্বোকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হয়েছে মুশফিকের নাম।

বি.কে.এস.পিতে বন্ধুরা যখন দেখত ভবিষ্যতের স্বপ্ন, মুশফিকের তখন টেস্ট অভিষেক। অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলা ৩ টেস্ট আর ১৮ একদিনের ম্যাচে যথাক্রমে ৩১ ও ৩৫ গড়ে রান করে দ্যুতি ছড়ানো মুশফিকুর রহীম ডাক পান ২০০৫ এর বাংলাদেশ দলে।

মাত্র ১৬ বছর ২৬৭ দিনে লর্ডস গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামেন। মিডল অর্ডারে শেষ বছরে বাংলাদেশকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতিয়েছেন।

অপরিচিত কন্ডিশনে আর বাউন্সী ট্র‍্যাকে অনভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে শুধু মুশফিকের জন্য না , পুরো বাংলাদেশ দলের জন্যই সফরটি ছিলো একটি চ্যালেঞ্জ। তার উপর খালেদ মাসুদ পাইলটের জায়গায় উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পাওয়া ১৬ বছর বয়সী মুশি কতটুকু কি করতে পারবেন ইংল্যান্ডে, মানিয়ে নিতে পারবেন কিনা সেটা নিয়ে সংশয় তো ছিলোই।কিন্তু সকলের মনের সব সংশয় দূর করে দিলেন।

১৯৮৮ সালের ৯ মে বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করা মুশফিক জাতীয় দলের হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে এসেক্স ও নর্দাম্পটনশায়ারের হয়ে খেললেন ৬৩ ও ১১৫ রানের দারুণ দুটি ইনিংস।

সুযোগ পেয়ে গেলেন সেরা একাদশে। ২৬শে মে ২০০৫, লর্ডসের সবুজ ঘাসে অভিষিক্ত হয়ে রেকর্ড গড়লেন ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার মুশফিকুর রহীম। ঘরে বসে তখন প্রার্থনায় রত বাবা মাহবুব হামিদ আর মা রহিমা খাতুন। মা কথা বলতে পারেন না। কথা জড়িয়ে যায়। কিন্তু ছেলের জন্য আবেগ উৎকন্ঠা সবই যে ফুটে উঠেছিলো তার চোখে।

খেললেন মুশফিক, গর্বিত করলেন তার মা বাবাকে। গর্বিত করলেন বগুড়াবাসীকে। ১৯ রান করে অভিষেকটা তেমন স্মরণীয় করতে না পারলেও ১০৮ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ দলের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয় ব্যাটসম্যান যিনি কিনা দুই অঙ্কের ঘরে পৌছতে পেরেছিলেন। কিন্তু মুশফিকের কি দূর্ভাগ্য, ইনজুরীতে পড়ে পুরো সিরিজের জন্যই চলে গেলেন মাঠের বাইরে। ঘরে বসে মা রহিমা খাতুনের চোখের জলে ভিজে যায়।

খালেদ মাসুদ পাইলট এর পরে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সফল উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান নিসন্দেহে মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান অধিনায়ক। সাকিব আল হাসানের স্থলভিষিক্ত মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সফল অধিনায়কও! ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ২০১১ সালে একমাত্র টি-২০ ম্যাচে শেষ বলে ৬ দিয়ে ম্যাচ জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন এই মুশফিক। আবার এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে ২৫ বলে ৪৬ রানের ইনিংস। ২০১২ সালে আবার ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সাহসী ব্যাটিং দিয়ে ৩-২ এ সিরিজ জয় ও সিরিজ সেরা নির্বাচন।

আগষ্ট ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট ও একদিনের সিরিজ হারের সাথে সাথে ড্রেসিং রুমে অশোভন আচরন ও কোচের সাথে অযাচিত কথাবার্তার কারণে অধিনায়ক সাকিবকে ও তার সহঅধিনায়ক তামিমকে বহিষ্কার করা হয়। সে সময়ে অস্টেলিয়ার কোচ স্টুয়ার্ট ল এর সাথে আলোচনা করে মুশফিকুর রহিমকে অধিনায়ক ও তার ডেপুটি হিসেবে মাহমুদুল্লাহকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে অধিনায়ক ঘোষনা করা হয়। অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম ম্যাচেই ঘরের মাঠে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ২৬ বলে ৪১ রানের ইনিংসে টি-২০ তে জয় পায় তবে টেস্ট সিরিজ ২-০ তে ও ওয়ানডে সিরিজ ২-১ এ হেরে যায়।

এর পরের গল্পটা পরিশ্রম আর এগিয়ে যাওয়ার গল্প। কীভাবে কঠোর পরিশ্রম একটা মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে তার জ্বলন্ত উদাহরণ যেন মুশফিকুর রহীম। করলেন ভারতের বিপক্ষে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরী। ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে পেলেন জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব। দলকে নিয়ে গেলেন এশিয়া কাপের ফাইনালে, জিতলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ, নিউজিল্যান্ড সিরিজ।
শ্রীলংকার মাটিতে করলেন ২০০ রান। ঘরোয়া লীগ বলেন কিংবা জাতীয় দল দুই জায়গাতেই সমানভাবে পারফর্ম করে যেতে লাগলেন।

কিন্তু বিশ্বকাপের পরে ৫ টি একদিনের ম্যাচে মাত্র ৪ রান করে দল থেকেই বাদ পড়ে যান মুশফিক। তার জায়গায় ডাকা হয় ধীমান ঘোষকে। আবারও ডাক পান ২০০৮ এ ভারত-শ্রীলংকা-বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং এশিয়া কাপের দলে। ২০০৯ এ পান সহ অধিনায়কের দায়িত্ব। জিম্বাবুয়ে সিরিজে মাশরাফির অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্ব পাওয়া সাকিব আল হাসানের ডেপুটির দায়িত্ব বেশ ভালোভাবেই পালন করেন মুশি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক, বাংলাদেশের একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিয়ান, বগুড়া নিবাসী মুশফিকুর রহিম মানিকগঞ্জের মেয়ে জান্নাতুল কিফায়াত মন্ডি’র সাথে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।