Home > সাফল্যের গল্প > সব্যসাচী দুরদানা হোসেন দিলিয়া
সাফল্যের গল্প

সব্যসাচী দুরদানা হোসেন দিলিয়া

 

মাসিদ রণ: চেহারায় মায়ের আদল। কণ্ঠে মমতার স্পর্শ। ওড়নায় আধঢাকা মস্তিষ্ক আর মোটা ফ্রেমের চশমার মধ্যে মানুষটিকে বড্ড আপন মনে হয়। তিনি দুরদানা হোসেন দিলিয়া। বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা, ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ও সমাজসেবী। আসলে সমাজ সেবা যেন তার রক্তেই রয়েছে। হাসন রাজার উত্তরসূরী যে!

বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ উদ্যোগে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ওপর ১ বছরের ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে কয়েক বন্ধু মিলে লেগে পড়েন কাজে। বেশকিছু কাজ তারা একসঙ্গে করেছেনও। এরপর স্বাভাবিক নিয়মেই বিয়ে, সংসার, স্বামী-সন্তানকে নিয়ে কেটে যায় বেশ ক’বছর। কিন্তু সৃজনশীলতাকে কি আর বেঁধে রাখা যায়। যে মানুষটি তার সৃজন শক্তি আর মেধা দিয়ে একটি বাসযোগ্য স্থানকে আরো মোহনীয় করে তুলতে চান, তাকে কি আর চার দেয়ালে বন্দি জীবন বেশিদিন মানায়?

অবশ্য স্বামী বা সামাজিক চাপে নয়, সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতেই তিনি নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে রাখেন কাজের জগৎ থেকে। অবশেষে আবার ফেরার পালা। ২০০৯ সালে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন এক্সিন নামের একটি ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ফার্ম। সেখান থেকে ইতোমধ্যে অসংখ্য ভালো ভালো কাজ করেছেন দিলিয়া। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মিরপুর ডিওএইচএস এ অবস্থিত সেনা কল্যানের অপরাজিতা ভবন, গ্যাস্ট্রোলিভারের বেশ কটি জেলা অফিস, সম্রাট গ্রুপ, অনন্ত গ্রুপ, যমুনা ব্যাংকসহ অনেকগুলো কর্পোরেট অফিসের ইন্টেরিয়র ডিজাইন তার প্রতিষ্ঠান থেকে করা। ফলে নিজেই শুধু সাবলম্বি হননি, তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বেশকিছু মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে তার হাত ধরে।

শুধু তাই নয়, প্রত্যক্ষভাবেও তিনি সজামসেবার সঙ্গে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। সম উন্নয়ন সোসাইটি নামের একটি সংগঠনের জয়েন সেক্রেটারির মতো দায়িত্বশীল পদে অধিষ্টিত আছেন এই সফল নারী উদ্যোক্তা। এই সোসাইটি থেকে ইতোমধ্যে তারা পথশিশু ও মহিলাদের পুর্ন:বাসনের ব্যবস্থা করেছেন। ভবিষ্যতেও অনেক রকমরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

এসব কাজের জন্য সমাজ তাকে স্বীকৃতিও দিয়েছে দু’হাত ভরে। তার অফিস কক্ষে থরে থরে সাজানো রয়েছে অসংখ্য মানপত্র, সনদ ও মেডেল। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্মাননা ২০১৮, মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড ২০১৭, বাংলাদেশ সীমান্ত কালচারাল পদক ২০১৪, অতীশ দিপঙ্কর স্বর্ণপদক ২০১৩, এফ জে এ অ্যাওয়ার্ড অব ফ্রিডম, রোটারি ক্লাব সম্মাননা ইত্যাদি।


সিলেটের এই সন্তান নিজের কর্মক্ষেত্রে যেমন সফল, তেমনি সংসারের হালও ধরে রেখছেন শক্ত হাতে। কাজ করে দিনশেষে যখন বাসায় ফেরেন, তখন তিনি একেবারে সাধারন গৃহবধূ। তার স্বামী ইশতাক হোসেন একজন স্বনামধণ্য গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। আর একমাত্র ছেলে মো. ফায়াদান হোসেন ফারাবীও সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সিঙ্গাপুরভিক্তিক একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।

দুরদানা হোসেন দিলিয়া ভীষণ সংস্কৃতিমনা একজন মানুষ। সংস্কৃতির প্রতি এই প্রেম হয়ত এসেছে পূর্ব প্রজন্ম থেকে। হাসন রাজার মতো বাংলার উজ্জ্বল নক্ষত্র তারই পূর্ব পুরুষ। এজন্য সময় পেলেই ডুব দেন হাসন রাজার গানে। ঘুরতে যেতে ভীষণ পছন্দ করেন। তখন সঙ্গে থাকে স্বামী, সন্তান ও মা।

এছাড়া রান্না-বান্নায়ও রয়েছে তার বিশেষ পারদর্শীতা। বাঙালি খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন পদের বিদেশি খাবারও তৈরি করেন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। শুধু নিজের বাসা বা অতিথিদের জন্যই রান্না করেন না। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন ম্যাগাজিনে তার রান্নার রেসিপি ছাপা হয়। সবমিলিয়ে দুরদানা হোসেন দিলিয়ার জয়রথ বেশ ভালো গতিতেই ছুটছে….