Home > লাইফ স্টাইল > সেতুর ব্রাইডাল কালেকশন
লাইফ স্টাইল

সেতুর ব্রাইডাল কালেকশন

 

শুভসকাল ডেস্ক : তরুণ মেধাবী ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশা খালেক সেতু। বিগত এক দশক ধরে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি। কাজ করে যাচ্ছেন নিজস্ব গতীতে। তার ডিজাইনে রয়েছে স্বকীয়তা। তাইতো খুব দ্রুত ফ্যাশন জগতে নিজের আলাদা অবস্থান করে নিয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজস্ব ফ্যাশন হাউজ। ‘ওশান অব আর্ট’ (বাড়ি ১৩, রোড ১৯, সেক্টর ১৩, উত্তরা) নামের ফ্যাশন হাউজটি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ২০০৮ সালে। এছাড়া নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘সেতু’স কালেকশন’-এ ভিজিট করলেও তার ডিজাইন করা পোশাক দেখতে পাওয়া যাবে। 

এই ফিচারের ছবিগুলো তার ডিজাইন করা ব্রাইডাল কালেকশন।

সেতুর ডিজাইন করা কনের হলুদের পোশাক

বিয়েতে শুধু দাওয়াত পর্যন্ত সীমা বাঁধা থাকে না। অনেক আগে থেকে চলে বিয়ের পূর্বপ্রস্তুতি। বিশেষ করে বর-কনের। এই দিনটাতে সুন্দর করে উপস্থাপন করা চাই দুজনকেই। কনেকে প্রস্তুত হতে হয় বেশ আগে থেকেই। প্রথমেই আসা যাক বিয়ের ও বউভাতের শাড়ির ব্যাপারে।
বাঙালি নারীর সৌন্দর্য আর ব্যক্তিত্ব শাড়িতেই সবচেয়ে ভালো ফুটে ওঠে। অনেক আগে বউয়ের শাড়ি মানেই ছিল লাল টুকটুকে বেনারসি বা মিরপুরের কাতান। মাঝখানে আকাশ সংস্কৃতির ছোঁয়ায় অনেকেই ঝুঁকেছিলেন বিদেশি শাড়ির দিকে। কিন্তু অধুনা দেশি শাড়ি ফিরে আসছে স্বমহিমায়।


উজ্জ্বল বাহারি রং আর কারুকাজের শাড়ির সমারোহ বিয়েতে অন্য রকম মাধুর্য নিয়ে আসে। বিয়ের পর্বটা শেষ হলেই চলে আসে বউভাত। বউভাতে শাড়ি সাজে এমন স্নিগ্ধতা থাকা চাই, যেন নবপরিণীতা বধূর চেহারায় ফুটে ওঠে প্রসন্ন ও মনোমুগ্ধকর আবেদন। বিয়েতে যেমন একসঙ্গে অনেক বেশি গয়না পরলেই জমকালো লাগে, এদিনে লুক হয় ঠিক তার উল্টো।

বিয়ে
বিয়ে বললেই যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে লাল রং। বিয়েতে তাই বেছে নিন লাল শাড়ি। একেবারেই লাল পরতে না চাইলে আছে মেরুন, জাম, গাঢ় নীল, বেগুনি বা গোলাপি। বিয়ের দিন বেছে নিন সবচেয়ে জমকালো শাড়িটি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে ঐতিহ্যবাহী শাড়িটি বেছে নিন। উপাদান হতে পারে জামদানি, বেনারসি, কাতান, টিস্যু বা মসলিন। পেটানো জরিতে মিনা করা, সিকোয়েন্সের ভারী কাজ, এমব্রয়ডারি, মুক্তা বা কুন্দনের কাজ করা শাড়ি বেছে নিতে পারেন।
বউভাত
বউভাতে বেছে নিন ফ্যাশনেবল, ট্রেন্ডি হালকা কাজ ও রঙের শাড়ি। রং হতে পারে সোনালি, পেঁয়াজি, সফট পিংক, পিচ এমকি সাদাও। অনেকেই সাদা পরছেন বউভাতে, এমকি বিয়েতেও। বউভাতে ভালো লাগবে সিফন, মসলিন আর হালকা কাজের জামদানি। সঙ্গে বেছে নিন বিপরীত রঙের ওড়না। সাদার শুভ্রতা আপনাকে অনন্য করে তুলবে।
আড়ংয়ের ডিজাইনাররা জানান, বিয়ে-বউভাতের শাড়ি হিসেবে জামদানি কাতান পছন্দের তালিকায় সবার ওপরে। সাধারণত বিয়েতে লাল মেরুন ম্যাজেন্টা পরলেও বউভাতে অনেকে রং নিয়ে একটু গবেষণা করতে পছন্দ করেন, তাই অনেকেই বেছে নেন সাদা, গোলাপি, পিচ ও সোনালি। এ ছাড়া আড়ং শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজের ওপরও কাজ করে। একটা ধ্রুপদি ধাঁচ ধরে রাখে। যেমন সিল্ক, কাতান, ভেলভেটের ব্লাউজ

টিভি অেনুষ্ঠানে ডিজাইনার আয়েশা খালেক সেতু

গড়ন ও ধরন বুঝে শাড়ি
l আপনার গায়ের রং শ্যামলা বা চাপা হলে একটু গাঢ় রঙের শাড়ি বেছে নিন। যেমন ব্লাড রেড, গাঢ় নীল বা গোলাপি। পেঁয়াজ বা বেগুনি রঙের শাড়ি মানিয়ে যাবে সবাইকে।
l যদি উচ্চতা কম হয়, তাহলে বেছে নিন সরু পাড় বা পাড় ছাড়া শাড়ি। উচ্চতা ভালো হলে চওড়া পাড়ের শাড়ি পরুন।
l আপনার গড়ন হালকা শুকনো হলে ভারী শাড়ি বেছে নিন। শাড়িটি হতে পারে টিস্যু বা মসলিনের আর ভারী কাজের।
l ভারী গড়নের হলে বেছে নিন সফট ম্যাটেরিয়ালের গাঢ় রঙের শাড়ি। যেমন শিফন বা জর্জেট।

বউ ভাতের সাজ গয়না

বউভাত অনুষ্ঠানের গয়না হোক আরেকটু ছিমছাম এবং হালকা-পাতলা। যেহেতু বিয়ের দিন সোনার গয়না পরা হয়, সেহেতু বউভাতের দিন মুক্তার গয়না পরতে পারেন। দেখতে ভালো লাগবে। আর এতে বিয়ে ও বউভাতের সাজেও ভিন্নতা থাকবে। যদি মুক্তার গয়না পরেন তাহলে কোনো ধরনের সোনা না পরলেই ভালো মানাবে। এ ছাড়া চাইলে রুপার গয়নাও পরতে পারেন। তবে কেউ চাইলে বিয়ের দিনও মুক্তার গয়না পরতে পারেন।
বউয়ের সাজও চুল
পারসোনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কানিজ আলমাস খান বলেন, আজকাল কনেরা শাড়ি, গয়না ও সাজে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চান। লাল লিপস্টিক পরেন ঠোঁটে, আবার উজ্জ্বল কমলা, বাদামি ও হালকা শেডের রংও দিয়ে থাকেন।
বিয়েতে শাড়ির রং থেকে শুরু করে মেকআপ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে উজ্জ্বল, গাঢ় রঙের ব্যবহারই বেশি করা হয়। ইদানীং আবার লাল কাতান শাড়ির চল ফিরে এসেছে। বিয়েতে ওড়না পরাতে হয় বলে চুলে খোঁপা করাই ভালো। বিয়েতে কনের বেজ মেকআপ বেশ গাঢ় হয়। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে সোনালি আর গাঢ় বাদামি আইশ্যাডো, লাল ব্লাশন আর গাঢ় লাল লিপস্টিক দেওয়া হয়। গাঢ় মেকআপের মধ্যেও উজ্জ্বলতা আনার জন্য সোনালি রঙের শিমার দেওয়া হয় লাইন আর ব্লাশনের ওপর। হাতে মেহেদি ও শাড়ির সঙ্গে রং মিলিয়ে হ্যান্ডপেইন্ট করতে পারেন। বিয়েতে খোঁপা, পার্শ্বসিঁথি ও খানিকটা কোঁকড়া করে চুলটাকে নানা কায়দায় বাঁধতে পারেন। এ সময়ে বেলি ফুলের সমাহার হয়। বেণি করে বা পুরো খোঁপায় বেলি ফুল ব্যবহার করতে পারেন। লাল বা সাদা শাড়ি পরলে হাতেও পেঁচিয়ে নিতে পারেন বেলি ফুল।
বউভাতের সাজে রুপার গয়না আনতে পারে ভিন্নতা

সেতুর ডিজাইন করা কনের বিয়ের পোশাক


বউভাতের সাজে মেকআপটা যেন বেশি গাঢ় না হয় সেদিকেও লক্ষ রাখা জরুরি। এই দিনে অনেকে চুল বাঁধতে চান না। তাঁরা চাইলে নানা ঢঙে চুল সাজাতে পারেন। চুলের নিচের দিকটা কোঁকড়া করে ছেড়ে দিতে পারেন। টিকলি পরলে সিঁথির আশপাশে চুল স্বাভাবিক রাখলে ভালো দেখাবে। এই সাজের সঙ্গে অবশ্যই নথ পরতে হবে। ঠোঁটে উজ্জ্বল রঙের কমলা লিপস্টিক দিতে পারেন।
চুলগুলো অল্প খোলা রেখে কোঁকড়া করতে পারেন। অথবা আয়রন করে ছেড়ে রাখা যেতে পারে। চাইলে ষাটের দশকের আদলে খোঁপা করতে চুলে গুঁজে দিতে পারেন কিছু তাজা ফুল।
শাড়ির রং হালকা হলে সাজটাও হালকা করতে পারেন কিংবা কোনো একটা অংশ হাইলাইট করে এক নিমেষেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারেন। বেজ মেকআপটা ভারী করে ফিনিশিং পাউডার দিয়ে মেকআপ সেট করে নিন। চোখে সোনালি বা ডিপ ব্রাউন রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। টেনে আইলাইনার লাগান। বড় ল্যাশের আইল্যাশ লাগিয়ে গাঢ় করে মাশকারা লাগান। শাড়ির রং হালকা হলে গাঢ় রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। আর খোঁপা এই সাজের সঙ্গে ভালো মানাবে।

লেখা : প্রথম আ্লোর সৌজণ্যে