Home > খেলাধুলা > স্বপ্নের সারথি রাব্বি

স্বপ্নের সারথি রাব্বি


ইফতেখার শুভ: চোখ দুটি আবেগে ছলছল করছিল। সামনে সবুজ গালিচা বিছানো মিরপুরের একাডেমি মাঠের দিকে আবার কখনো মুক্ত আকাশ পানে তাকিয়ে শোনাচ্ছিলেন নিজের গল্প। বহুদিন ধরে বোনা স্বপ্নগুলোর কথা বলতে গিয়ে মাঝে মধ্যেই ভারী হয়ে আসে তার কণ্ঠ। তবে আবেগ নয়, মাঠেই নিজেকে প্রমাণ করতে চান তিনি।
পুরো নাম কামরুল ইসলাম রাব্বি। বরিশালে জন্ম ডানহাতি এ পেসারের। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে ঘুরেছেন বিভিন্ন জেলায়। অন্য দশটি পাড়ার ছেলের মতোই টেপ টেনিসে বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা হতো তার। তবে বড় ভাই সাইফুল ইসলাম বাপ্পির খেলা দেখতে গিয়েই ক্রিকেট বলের সঙ্গে পরিচয় হয় রাব্বির। মনের ভেতর বাসা বাঁধে নতুন এক স্বপ্নের। প্রথম দিকে ব্যাটিংয়ের প্রতিই ছিল ঝোঁক। তবে লেখাপড়ার চাপের কারণে ক্রিকেট আর তেমন খেলা হয়নি তার। এরই মধ্যে মাধ্যমিক পেরিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে পা রাখেন। ২০০৭ সাল। টিভির একটি বিজ্ঞাপনে হঠাৎ চোখ আটকে যায় তার। গ্রামীণফোন পেসার হান্ট। এটিই তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। নাম লেখান ওই প্রতিযোগিতায়। সবার শেষে মাঠে উপস্থিত হয়েও হলেন প্রথম। ডাক পেলেন ঢাকায়। শুরু হলো নতুন এক জীবন। ২২ গজের সঙ্গে নতুন এক সংগ্রাম।
এরপর দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ থেকেই সুযোগ হয় প্রিমিয়ার লিগে খেলার। ওল্ড ডিওএইচএস দল নেয় তাকে। প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচেই তিন উইকেট পান রাব্বি। সেই পথ চলা শুরু। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় লিগ, অনূর্ধ্ব-১৯, বাংলাদেশ এ দলে খেলেছেন তিনি।
কিন্তু সবার মতো তারও দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ছিল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো। অবশেষে ২০১৫ সালে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ এ দলের হয়ে খেলছিলেন তিনি। এক সকালে অনুশীলনের সময় হাবিবুল বাশারের মুখ থেকে পান জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার মধুর সংবাদটি। আবেগে বাঁধ ভাঙেনি তার। কিন্তু মনের ভেতর খেলে যাচ্ছিল এক অন্য রকম অনুভূতি। তবে এর পর থেকে ভাগ্যদেবী কেমন যেন তার সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা শুরু করে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলে থাকলেও খেলা হয়নি কোনো ম্যাচ। এরপর এশিয়া কাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকলেও খেলার সুযোগ হয়নি তার। তবু ধৈর্য হারাতে রাজি নন রাব্বি। নিজেকে আরো পরিণত করতে চান। তার বিশ্বাস যোগ্যতা থাকলে সুযোগ আসবেই। আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য ঘোষিত প্রাথমিক দলেও আছেন এ পেসার। এর আগে রয়েছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের এক সিরিজ। এখন শুধু সুযোগের অপেক্ষা।
দেখার বিষয় কবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামতে পারেন রাব্বি। হতে পারেন মাশরাফি, মোস্তাফিজ, রুবেল তাসকিনদের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। দিতে পারেন বাঘের গর্জন। সেই গর্জনে কেঁপে উঠবে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্যে যুক্ত হবে আরো একটি নতুন পালক।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.