বিনোদন

বিজ্ঞাপনের আইরিন


masid rono1শোবিজ জগতে বেশ কয়েকজন আইরিন। তাঁদের মধ্য থেকে নিজেকে আলাদা করে চেনাতে এক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে আইরিন আফরোজকে। তিনি এখন বিকাশের আইরিন নামেই পরিচিত। টিভি বিজ্ঞাপন দিয়ে তারকা হওয়া এই মডেলের বিজ্ঞাপন নিয়ে লিখেছেন মাসিদ রণ। ছবি তুলেছেন শামছুল হক রিপন

আইরিন আফরোজ মিডিয়ায় আসেন গত বছরের শুরুর দিকে। যাত্রা শুরু কম পরিচিত এক শিল্পীর গানের ভিডিওতে মডেল হয়ে। তবে মেধা থাকলে যে সুযোগ আসবেই, এ কথা প্রমাণ করেছেন তিনি। মিউজিক ভিডিওটি চ্যানেলে প্রচারের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ডাক পান জনপ্রিয় মোবাইল ফোন কম্পানি সিটিসেল থেকে। তবে সেখানে খুব অল্প সময় স্ক্রিনে দেখানো হয় তাঁকে। তবুও নিজেকে আলাদাভাবে প্রকাশ করতে পেরেছিলেন আইরিন। এ জন্যই পরের টিভিসিতে একেবারে প্রধান মডেল হিসেবে কাজ করার ডাক পান। তাও আবার প্রাণের মতো বহুজাতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে। প্রথমেই করেন সাবিনের নির্দেশনায় প্রাণ ঝালমুড়ির টিভিসি। এখানে তিনি থাকেন আরজে। কথা গুলিয়ে ফেলেন বারবার। তারপর প্রাণ ঝালমুড়ি খেয়ে শ্রোতাদের একেবারে মাত করে দেন। কিন্তু এই টিভিসিতে সুযোগ পাওয়ার জন্য নাকি আইরিনের সুন্দর মুখ বা গ্ল্যামার খুব বেশি সাহায্য করেনি; বরং তাঁর চটপটে ভাব আর অনর্গল কথা বলার পারদর্শিতা কাজে দিয়েছে।irin

অমিতাভ রেজার সঙ্গে কাজের সুযোগ পান এ বছরের শুরুর দিকেই। এটি ছিল বিকাশের টিভিসি। এখানে তিনি লাল টুকটুকে বউ, যার বিয়েকে কেন্দ্র করে বিকাশের নানা ধরনের সেবা তুলে ধরা হয়। এই টিভিসি করেই তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন। পরিচালক ও ক্লায়েন্টরাও তাঁকে চিনতে শুরু করেন। ‘বিকাশের টিভিসি আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। শুধু তা-ই নয়, নিজেকে ক্যামেরার সামনে উপস্থাপনের ব্যাকরণ শিখেছি অমিতাভ রেজার সঙ্গে কাজ করে। তাই পরবর্তী কাজগুলো আগের থেকে অনেক বেশি সুন্দর আর সাবলীল হয়েছে’, বললেন আইরিন।

যে টিভিসি নিয়ে এত কথা, তার গল্পটা একটু বলতেই হয়। বিকাশের এই টিভিসিতে দেখা যায়—প্রত্যন্ত গ্রামের একটি মেয়ের বিয়ে। বরযাত্রী বিয়েবাড়িতে পৌঁছতেই ঐতিহ্য অনুযায়ী মেয়েপক্ষ গেট ধরে আবদার করে, ‘টাকা না হলে গেট ছাড়ব না!’ বরের দুলাভাই সবাইকে অবাক করে টাকাটা দ্রুত বিকাশে পাঠিয়ে দেন। বরযাত্রীর লোকজন বাড়তি দেখে মেয়ের বাবা মিষ্টির দোকানে থাকা তাঁর ছোট ছেলেকে আরো তিন কেজি রসগোল্লা বেশি আনতে বললেই সে বলে—তার কাছে যথেষ্ট টাকা নেই। তখনই মিষ্টির দোকানদার পেমেন্টটা বিকাশ করে পাঠাতে বলেন। এমনি নানা সেবার কথা বলা হয় এই টিভিসিতে। এর শুটিং হয়েছিল গতবারের শীতে গাজীপুরের হোতাপাড়ায়। দুই দিনে শেষ হয় পুরো কাজ। সবার থাকার জন্য পুরো একটা কটেজ ভাড়া করা হয়েছিল। আর সেখানেই আইরিনের সঙ্গে ঘটে লোমহর্ষক এক ঘটনা। ‘প্রথম দিন শুটিং শেষে রাতে কটেজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমি আর কস্টিউম ডিজাইনার সান কথা বলছিলাম। দূরে থাকা ইউনিটের কয়েকজন আমাকে নানাভাবে ভূতের ভয় দেখাতে লাগল। আমি পাত্তা না দিয়ে শুয়ে পড়লাম। পরের দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি কটেজে কেউ নেই, সবাই একটু দূরে সেটে চলে গেছে। আমি ফ্রেশ হয়ে যেই বাইরে বেরিয়েছি, দেখি সাদা শাড়ি পরা এক মহিলা আমাকে দেখে খিলখিল করে হাসছে! ভয়ে পারলে দৌড়ে বাঁচি। কাঁদতে শুরু করি। পরে বুঝলাম, ভয়ে ভুল দেখেছি!’ স্মৃতি হাতড়ে হাসতে হাসতে বললেন আইরিন।

তবে শুটিংয়ে মজার অভিজ্ঞতাও কম নেই তাঁর। এই যেমন প্রাণ পিনাট বারের টিভিসি করতে গিয়ে কুকুরের সঙ্গে ঘটে যায় তাঁর মজার ঘটনা! ‘শটের কিছুক্ষণ আগে পরিচালক বললেন—কুকুরটার সঙ্গে একটু ভাব জমিয়ে নাও। নইলে শটের সময় ঝামেলা করবে। আমিও এ কথা শুনে কুকুরটিকে কোলে তুলে নিই। কিন্তু দেখা গেল, কুকুরটি জিব দিয়ে আমার হাত-পা চাটতে শুরু করেছে। এদিকে আমার মেকআপ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে কয়েক দফা মেকআপ দিতে হয়। কিন্তু একসময় কুকুরটির সঙ্গে বেশ সখ্য হয়। কিন্তু শটের সময় ঠিকই বিপদে পড়লাম। কুকুরটি চাটাচাটি বন্ধ করলেও কোনোভাবেই ক্যামেরার দিকে তাকায় না। এদিকে আমি এক্সপ্রেশন দিতে দিতে ক্লান্ত। কিন্তু কুকুরের এক্সপ্রেশন ঠিক হয় না। এটা নিয়ে খুব হাসাহাসি হয়েছিল সেটে।’airin ad

কুকুর নিয়ে একই বিপত্তিতে কিছুদিন আগেও পড়তে হয়েছিল আইরিনকে। এটি ছিল রেদোয়ান রনির নির্দেশনায় এয়ারটেলের একটি ভাইরালের শুটিংয়ে। এখানে কয়েকজন বন্ধুর একেকটা অভ্যাস তুলে ধরা হয়। আইরিনকে দেখানো হয় পশুপ্রেমী হিসেবে। কিন্তু শুটিংয়ের কুকুরটি এত বড় ছিল যে শট ওকে করতে গিয়ে রিতিমতো হাত ব্যথা হয়ে গিয়েছিল তাঁর।

এসব ছাড়া আইরিনের করা উল্লেখযোগ্য টিভিসির মধ্যে রয়েছে প্যারাশ্যুট নারিকেল তেল, গোল্ডমার্ক বিস্কুট, মেরিল পেট্রোলিয়াম জেলি, মাই ক্যাশ, মেন্টরস ও ট্যুরিজমের ওপর করা সরকারি টিভিসি ‘হ্যালো বাংলাদেশ’।

গত সপ্তাহে শুটিং শেষ করেছেন সহজ ডটকমের টিকিটশালার টিভিসি। এতে তাঁকে দুই বন্ধু সমান ভালোবাসে। কিন্তু আইরিনের বাবা বলেন, যে আমাকে ট্রেনের টিকিট আগে এনে দিতে পারবে সে হবে আমার জামাই। একজন কাউন্টারে টিকিট আনতে গিয়ে দেরি করে। আর অন্যজন সহজ ডটকম থেকে অনায়াসে অনলাইনে টিকিট এনে দেয়। এ প্রসঙ্গে আইরিন বললেন, ‘এই টিভিসির কনসেপ্টটা মজার। আমাকে পুরনো দিনের চিত্রনায়িকাদের মতো বেণি করা লম্বা চুল, কাজল টানা চোখে পিটপিট করে তাকানো, মুচকি হাসি—এসব করতে দেখা যাবে। এটিও প্রচার করা হবে শিগগিরই।’