বিনোদন

হৃদয় স্পর্শ করা সেই বিজ্ঞাপনটির পেছনের গল্প


masid rono1প্রচারিত হচ্ছে আইডিএলসি কার লোনের বিজ্ঞাপন। কাহিনীভিত্তিক টিভিসিটিতে পাত্র-পাত্রীর অনবদ্য অভিনয়ে খুবই অল্প সময়ে এটি দর্শকের পছন্দের তালিকায়। এ টিভিসির প্রধান মডেল কারার মাহমুদ। তাঁর কাছে জানা গেল বিজ্ঞাপনটির পেছনের গল্প। শোনাচ্ছেন আল মাসিদ

ছাত্রজীবনেই প্রেমে পড়ে একটি জুটি। প্রেমিকের একটি বাইক আছে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, প্রেমিকাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়াসহ বাইকটি যেন তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রেম বাঁচাতে তাড়াতাড়ি বিয়ে করে। জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে ওই বাইকে করেই জীবনের প্রথম চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাওয়া। একসময় স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হয়। অনেক কিছু ভেবে প্রেমিক গাড়িটি মুছতে থাকে একমনে। স্ত্রীর মনে বাইকটির প্রতি খুব হিংসা হয়। অসুস্থ স্ত্রীকে কোথায় একটু সময় দেবে, তা না করে সে বাইকের যত্ন করছে। কিন্তু বাইকটি যত্ন করার আসল কারণ হলো তা বিক্রি করা। কারণ দুদিন বাদেই ঘরে আসবে নতুন অতিথি। তিনজনে মিলে চড়তে হলে চাই একটা নতুন গাড়ি। কিন্তু, শুধু বাইক বেচে আর কয় টাকা? চিন্তা নেই! আছে আইডিএলসি কার লোন। সব মিলিয়ে সন্তান জন্মের পর তাকে দেখতে প্রেমিক যায় নতুন গাড়ি নিয়ে। স্ত্রী আবেগপ্রবণ হয়ে বলে ‘আমার কিন্তু এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না।’

নেপথ্যে

৫১ সেকেন্ডের এই টিভিসিটি নির্মাণ করেছেন আশফাকুজ্জামান বিপুল। ডিওপি ছিলেন মোর্শেদ বিপুল। প্রযোজক মাহজাবীন রেজা। এজেন্সি এশিয়াটিক।

লোকেশন

দুই দফায় মোট তিন দিন শুটিং হয়েছে। এক দিন তেজগাঁওয়ের কোক ফ্যাক্টরিতে (বাইক ধোয়া, ঘরের ভেতরের দৃশ্যগুলো ও বৃষ্টির দৃশ্যটি) আরেক দিন উত্তরার দিয়াবাড়িতে (প্রথম দৃশ্যে বাইক বিক্রি, প্রেমিক-প্রেমিকার বাইক ও গাড়িতে করে যাওয়ার দৃশ্যগুলো) এবং শেষ দিন আশুলিয়ার একটি মেডিক্যাল কলেজে (সন্তান হওয়ার দৃশ্যটির জন্য)।tvc1

যেভাবে কারার

খুবই সাধারণভাবে এই বিজ্ঞাপনটিতে কাজের সুযোগ পেয়েছেন কারার মাহমুদ। কাজের সুবাদে বিভিন্ন এজেন্সিতে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। এশিয়াটিকের এই টিভিসির কথা জানলেন। সময়মতো অডিশন দিলেন। প্রথমে আশা ছিল যে কাজটা তিনি পাবেন। কিন্তু অডিশনে গিয়ে এ সময়ের জনপ্রিয় বেশ কয়েকজন মডেলকে দেখে আশাটাই মরে গিয়েছিল। তবু মনোযোগ দিয়ে অডিশনে ডায়ালগ টেস্ট ও স্ক্রিন টেস্ট দিলেন। দুদিন পরই তাঁকে জানানো হয়, কাজটি তিনিই করছেন। পরে জানতে পারলেন এই টিভিসিতে এমন একজন মুখ দরকার, যার মধ্যে প্রেমিক ও দায়িত্ববান এক স্বামীর দুটি রূপই সমানভাবে ফুটে উঠবে। অভিনয়টা ভালো জানতে হবে। তাই এজেন্সি বা পরিচালক বিপুল চাননি বেশি চেনা কোনো মুখ নিয়ে কাজ করতে। এতে টিভিসির গল্পের চেয়ে আকর্ষণটা ওই মডেলের দিকে যাবে।

জ্বর ও ঝামেলা

শুটের আগে বোঝাপড়াটা হওয়ার জন্য পরিচালক বিপুল, কারার ও কো-আর্টিস্ট রাকাকে বেশ কয়েকবার আড্ডায় বসতে হয়েছে। টিভিসিতে কারার ও রাকাকে প্রথমে প্রেমিক-প্রেমিকা, পরে স্বামী-স্ত্রী এবং শেষে মা-বাবা-এই তিনটি স্টেজে দেখানো হবে; যা একসঙ্গে ফুটিয়ে তোলা কঠিনই বটে। তার মধ্যে আবার প্রথম দফায় দুই দিন শুটিং করার পর কারারের প্রচণ্ড জ্বর হয়। ‘শুটিং হয়েছিল শীতের মধ্যে। শুটিংয়ের দ্বিতীয় দিন রোমান্টিক দৃশ্যের জন্য রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ঠাণ্ডা পানির কৃত্রিম বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছিল। এর পরের দিন সকালে আমি আর উঠতে পারছি না, পুড়ে যাচ্ছে শরীর। ভাবলাম, হাতছাড়া হবে! তবে শাপেবর হলো। পরিচালক ফোন করে বললেন, আজ শুটিং হবে না। কী একটা ঝামেলার জন্য প্রায় ১০ দিন পর আবারও এক দিন শুটিংয়ের মাধ্যমে কাজ শেষ হয়।’ বললেন কারার।

বকা খেয়ে পার

একেবারে শেষ দৃশ্যটি করতে গিয়ে কারার বারবার পরাস্ত হচ্ছিলেন, রেগে গিয়ে পরিচালক বিপুল প্রচণ্ড বকা দেন। আর তাতেই কাজ হয়। বকা খেয়ে পরের শটেই ওকে। গাড়ির ড্রাইভিং সিট থেকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা স্ত্রী ও সন্তানের দিকে এবার ঠিকমতোই তাকাতে পারলেন কারার।

– কালের কণ্ঠ অবলম্বনে